‘সীরাতুন্নবী’ (সা.) বা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনচরিত সম্পর্কে ১০টি বাক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ‘সীরাতুন্নবী’ বলতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র পবিত্র জীবনচরিতকে বোঝায়।
২. মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
৩. শৈশব ও কৈশোর থেকেই তাঁর সত্যবাদিতা, সততা ও আমানতদারিতার কারণে আরববাসী তাঁকে ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
৪. ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তাঁর ওপর পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণী নাজিল হয় এবং তিনি নবুয়ত লাভ করেন।
৫. তিনি তাওহীদ বা একত্ববাদের বার্তা প্রচার করে অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজকে আলো ও হেদায়েতের পথ দেখান।
৬. ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদীনায় তাঁর হিজরত মানব ইতিহাসের একটি অন্যতম ঐতিহাসিক ও মোড়ঘোরানো ঘটনা।
৭. মদীনায় হিজরতের পর তিনি ‘মদীনা সনদ’ রচনার মাধ্যমে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
৮. তাঁর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বিদায়ে হজ্জের ভাষণ মানবজাতির সার্বজনীন মানবাধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
৯. সীরাতুন্নবী কেবল একটি ঐতিহাসিক বিবরণ নয়, বরং এটি প্রতিটি মুসলমানের জীবন পরিচালনা ও উত্তম চরিত্রের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।
১০. ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে তিনি ওফাত লাভ করেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কুরআন ও সুন্নাহ কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো হয়ে থাকবে।

1 thought on “সীরাতুন্নবী সম্পর্কে কিছু তথ্য”